বিদেশিরা কি বাংলাদেশে সম্পত্তি কিনতে পারেন? জানুন বিনিয়োগের নিয়ম ও সুযোগ
বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন বিদেশি ও অনিবাসী বাংলাদেশিদের (NRB) কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চান, "বিদেশি নাগরিক হিসেবে কি বাংলাদেশে ফ্ল্যাট বা জমি কেনা সম্ভব?"
সহজ উত্তর হলো- হ্যাঁ, সম্ভব! তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু আইনি প্রক্রিয়া এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। আজকের ব্লগে আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে সম্পত্তি ক্রয়ের নিয়মকানুন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
১. বিদেশিরা কোন ধরনের সম্পত্তি কিনতে পারেন?
বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে সরাসরি আবাসিক ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে পারেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে প্রিমিয়াম অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা বর্তমানে তুঙ্গে। ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশিরা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা মূল্যের ২১৬টি বাড়ি কিনেছেন, যা প্রমাণ করে এই বাজারে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কতটা প্রবল।
তবে সরাসরি জমি কেনার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত কৃষি জমি বা রাজউকের (RAJUK) অন্তর্ভুক্ত এলাকায় জমি কেনা বিদেশিদের জন্য জটিল। তবে এর একটি কার্যকর সমাধান আছে— বাংলাদেশে একটি কোম্পানি নিবন্ধিত করে সেই কোম্পানির নামে জমি কেনা সম্ভব।
২. প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ ও অনুমতি
বাংলাদেশে সম্পত্তি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আইন সরাসরি কোনো বাধা না দিলেও কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়:
BIDA-এর অনুমোদন:
বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (BIDA) থেকে অনাপত্তি বা অনুমোদন নিতে হয়।
আর্থিক সক্ষমতা:
ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ অবশ্যই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এবং বিদেশি মুদ্রায় (যেমন- ডলার) পরিশোধ করতে হবে। এর জন্য NITA (Non-resident Investor’s Taka Account) ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।
পুলিশি ছাড়পত্র ও কাগজপত্র:
পাসপোর্ট, ট্যাক্স আইডি (TIN) এবং স্থানীয় থানায় প্রাথমিক তথ্য প্রদান করতে হয় নিরাপত্তার খাতিরে।
৩. কর ও নিবন্ধন ফি (২০২৬ সালের আপডেট)
সম্পত্তি ক্রয়ের সময় কিছু অতিরিক্ত খরচ বা সরকারি ফি প্রদান করতে হয়:
নিবন্ধন ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি:
সাধারণত মূল্যের প্রায় ১০% পর্যন্ত নিবন্ধন খরচ হতে পারে।
ভ্যাট (VAT):
ফ্ল্যাটের আয়তন অনুযায়ী ২% থেকে ৪.৫% পর্যন্ত ভ্যাট প্রযোজ্য হতে পারে।
ভাড়া থেকে আয়:
আপনি যদি ফ্ল্যাটটি ভাড়ায় দেন, তবে সেই আয়ের ওপর ৩০% পর্যন্ত আয়কর প্রযোজ্য হতে পারে।
৪. বিনিয়োগের জন্য ত্রিকোণ হোল্ডিংস কেন আপনার জন্য পারফেক্ট?
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সঠিক সম্পত্তি নির্বাচন এবং আইনি জটিলতা নিরসন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ত্রিকোণ হোল্ডিংস (Trikon Holdings) দীর্ঘ ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বচ্ছতা ও আস্থার সাথে আবাসন সেবা প্রদান করে আসছে। আমাদের বিশেষজ্ঞ টিম আপনাকে প্রপার্টি সিলেকশন থেকে শুরু করে বিডা (BIDA) অনুমোদন এবং চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সহায়তা করবে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা বা পূর্বাচলের মতো আধুনিক এলাকায় আপনার স্বপ্নের ঠিকানা নিশ্চিত করতে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।