আসন্ন বর্ষায় বাড়ির সুরক্ষা: দেয়ালের ড্যাম্প ও স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করার সহজ উপায়
জানালার বাইরে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ আর এক কাপ চা, বর্ষার দুপুরগুলো এমনই মোহময় হয়। কিন্তু এই বৃষ্টির আনন্দটুকু মাটি হয়ে যায় যখন দেখা যায় সাধের ঘরের দেয়ালে ড্যাম্প ধরছে কিংবা চুন-সুরকি খসে পড়ছে। স্যাঁতসেঁতে দেয়াল কেবল ঘরের সৌন্দর্যই নষ্ট করে না, বরং ঘরের ভেতর একটা গুমোট গন্ধ তৈরি করে যা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তাই বর্ষা পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই আপনার প্রিয় আবাসনের সুরক্ষায় কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
দেয়ালে ড্যাম্প কেন পড়ে?
সাধারণত দেয়ালের ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকলে বা ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের জায়গা না থাকলে দেয়ালে ড্যাম্প দেখা দেয়। অনেক সময় মেঝের নিচের আর্দ্রতা দেয়াল বেয়ে ওপরে উঠে আসে, যাকে আমরা রাইজিং ড্যাম্প বলি। এর ফলে দেয়ালে নোনা ধরে এবং রঙের আস্তরণ ফুলে ওঠে।
আধুনিক ওয়াটারপ্রুফিং প্রযুক্তির ব্যবহার
পুরনো আমলে দেয়ালে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে ড্যাম্প ঠেকানোর চেষ্টা করা হতো, কিন্তু বর্তমানে ওয়াটারপ্রুফিং প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি এসেছে। আপনার ঘরের দেয়াল যদি ড্যাম্প প্রবণ হয়, তবে বিশেষ ধরনের ওয়াটারপ্রুফিং কেমিক্যাল বা লিকুইড মেমব্রেন ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো দেয়ালের ওপর একটি অদৃশ্য সুরক্ষা কবচ তৈরি করে যা পানি ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। নতুন ঘর তৈরির সময় ঢালাইয়ে ওয়াটারপ্রুফিং কম্পাউন্ড মিশিয়ে নিলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা থেকে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক তদারকি
বৃষ্টির পানি যাতে বাড়ির কোথাও জমে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করাই হলো ড্যাম্প প্রতিরোধের প্রথম শর্ত। ছাদের পাইপ বা ড্রেন কি ময়লায় আটকে আছে? যদি থাকে, তবে এখনই তা পরিষ্কার করুন। ছাদের পানি যদি কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় জমে থাকে, তবে সেখান থেকেই লিক করে ঘরের সিলিং বা দেয়াল ভিজে যেতে পারে। বাড়ির চারপাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং দেয়াল থেকে পানির উৎস দূরে রাখা বর্ষাকালীন প্রস্তুতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ফাটল মেরামত ও পুটিংয়ের ব্যবহার
ঘরের বাইরের দেয়ালে ছোট ছোট ফাটল অনেক সময় আমাদের চোখে পড়ে না। কিন্তু এই সূক্ষ্ম ফাটল দিয়েই বৃষ্টির পানি শুষে নেয় দেয়াল। বর্ষার আগেই দেয়াল পরীক্ষা করে কোনো ফাটল দেখলে ভালো মানের সিল্যান্ট বা পুটিং দিয়ে তা ভরাট করে নিন। এছাড়া ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র দেয়াল থেকে অন্তত কয়েক ইঞ্চি দূরে সরিয়ে রাখুন যাতে দেয়াল ও আসবাবের মাঝে বাতাস চলাচল করতে পারে।
ঘর মানেই প্রশান্তি। আর সেই প্রশান্তি ধরে রাখতে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আবাসনের কিছুটা বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সামান্য সতর্কতা আর সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহার আপনার ঘরকে রাখবে শুকনো, ঝকঝকে এবং স্বাস্থ্যসম্মত। এই বর্ষায় তবে বৃষ্টির গান হোক ঘরের ভেতর বসেই, দেয়ালের চিন্তায় না ভুগে।