ড্যাপ (DAP) সংশোধন ২০২৫: আবাসন খাতে নতুন সম্ভাবনা
রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং আবাসন খাতের স্থবিরতা কাটাতে সরকার সম্প্রতি বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (DAP) ২০২৫ সংশোধন এবং ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০২৫-এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত এই সংশোধনী আবাসন ব্যবসায়ী এবং জমির মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন।
এই পরিবর্তনের ফলে ভবনের আয়তন ও ফ্ল্যাট সংখ্যায় কী প্রভাব পড়বে এবং সামগ্রিক আবাসন খাতে এর গুরুত্ব কতটুকু, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো আজকের ব্লগে।

১. ভবনের আয়তন বাড়ছে: এফএআর (FAR) বা ফার-এর পরিবর্তন
নতুন সংশোধনীতে ২০ ফুট বা তার বেশি প্রশস্ত রাস্তার পাশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) বাড়ানো হয়েছে।
২০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা: আগে ফার ছিল ২.৭৫, যা এখন বাড়িয়ে ৩.২৫ করা হয়েছে।
৩০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা: ফার ৩.২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩.৫ করা হয়েছে।
এর অর্থ হলো, একই পরিমাণ জমিতে আগের চেয়ে অনেক বেশি আয়তনের ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বাড্ডা এবং আফতাবনগরের মতো এলাকাগুলোতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
২. কাঠাপ্রতি ফ্ল্যাটের সংখ্যা বৃদ্ধি
জমির মালিকদের জন্য সবচাইতে বড় সুখবর হলো আবাসন ইউনিটের সংখ্যা বৃদ্ধি। আগে ৫ কাঠা জমিতে যেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফ্ল্যাট করা যেত, এখন সেই সীমাবদ্ধতা শিথিল করা হয়েছে।
পুরান ঢাকা: এখানে আবাসন ইউনিটের হার দ্বিগুণ (১.২ থেকে ২.৪) করা হয়েছে। ফলে ৫ কাঠার প্লটে এখন ৬টির পরিবর্তে ১২টি ফ্ল্যাট করা যাবে।
অন্যান্য এলাকা: গুলশান, বনানী, মিরপুর এবং মোহাম্মদপুর এলাকাতেও আবাসন ইউনিটের হার বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে ভবন মালিকরা আগের চেয়ে বেশি ফ্ল্যাট পাবেন।
৩. এলাকার ভিত্তিতে বিশেষ পরিবর্তন
এবারের সংশোধনীতে এলাকাভিত্তিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা: বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং জলসিঁড়ির মতো এলাকাগুলোর ফার আগের মতোই রাখা হয়েছে। তবে প্রশস্ত রাস্তার সুবিধা অনুযায়ী ভবনের আয়তন বাড়ানোর সুযোগ এখানেও থাকছে।
সংকুচিত এলাকা: ধানমন্ডি ও সাঁতারকুলের মতো কিছু এলাকায় এলাকাভিত্তিক ফার কিছুটা কমানো হয়েছে।
কৃষিজমি রক্ষা: ড্যাপের আওতায় থাকা কৃষিজমিতে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। তবে অনুমোদন সাপেক্ষে পোলট্রি বা মৎস্য খামারের মতো অস্থায়ী অবকাঠামো করা যাবে।
৪. নির্মাণ ফি ও সরকারি খরচের পরিবর্তন
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ভবন নির্মাণের আবেদন এবং নকশা অনুমোদনের খরচ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে:
নকশা অনুমোদন বা আপিল ফি ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
আবাসিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন ফি এখন প্রতি বর্গমিটারে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (আগে যা মোট মেঝের ওপর নির্দিষ্ট ছিল)।
বাণিজ্যিক বা শিল্পকারখানার ক্ষেত্রে এই ফি প্রতি বর্গমিটারে ১৫০ টাকা।
৫. আবাসন খাতে গতির প্রত্যাশা
রিহ্যাব (REHAB) এবং আবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২২ সালে ড্যাপ কার্যকর হওয়ার পর থেকে আবাসন ব্যবসায় এক ধরণের শ্লথগতি ছিল। এই নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যবসায় আবার নতুন প্রাণ ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। জমির মালিক এবং ডেভেলপার কোম্পানিগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্বের সুযোগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট কেনা আরও সহজসাধ্য হতে পারে।
ত্রিকোণ হোল্ডিংস বিশ্বাস করে, ড্যাপের এই যুগোপযোগী সংশোধনীর মাধ্যমে ঢাকা আরও পরিকল্পিত এবং আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে। বিশেষ করে বসুন্ধরা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে আমাদের যে প্রকল্পগুলো রয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব।