ঢাকার ভেতরেই একদিনে ঘুরে আসার মতো ১০টি সেরা জায়গার হদিস
ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে ঢাকার বাইরে যাওয়ার সময় সবসময় মেলে না। তবে ইট-কাঠের এই শহরেই কিন্তু লুকিয়ে আছে চমৎকার কিছু জায়গা, যেখানে মাত্র একটা দিনেই মনকে চাঙ্গা করে নেওয়া সম্ভব। ত্রিকোণ-এর আজকের আয়োজনে থাকছে ঢাকার ভেতরেই একদিনে ঘুরে আসার মতো ১০টি সেরা জায়গার হদিস।
১. লালবাগ কেল্লা: মোগল আমলের ইতিহাস
ঢাকার বুকেই মোগল সাম্রাজ্যের আভিজাত্য দেখতে চাইলে লালবাগ কেল্লার বিকল্প নেই। লাল ইটের এই দুর্গ, পরী বিবির মাজার আর বিশাল সবুজ মাঠ আপনাকে এক লহমায় নিয়ে যাবে কয়েক শ বছর আগের ইতিহাসে।
কীভাবে যাবেন: ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে গুলিস্তান বা আজিমপুর এসে রিকশা কিংবা সিএনজি নিয়ে সরাসরি লালবাগ কেল্লায় চলে যেতে পারেন।
২. আহসান মঞ্জিল: বুড়িগঙ্গার তীরে রাজকীয়তা
পুরান ঢাকার কুমারটুলিতে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে নবাবি আমলের স্মৃতিবিজড়িত এই ‘গোলাপী প্রাসাদ’। এর বিশাল সিঁড়ি আর রাজকীয় নির্মাণশৈলী যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর মন কাড়বে।
কীভাবে যাবেন: সদরঘাটগামী যেকোনো বাসে উঠে পড়ন। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সামান্য হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন আহসান মঞ্জিল।
৩. রমনা পার্ক: শহরের ফুসফুস
যাঁরা যান্ত্রিক কোলাহল থেকে দূরে একটু শান্তির খোঁজে আছেন, তাঁদের জন্য রমনা পার্ক এক টুকরো স্বর্গ। বিশাল সব গাছের ছায়া আর লেকের পাড়ে বসে সকাল কিংবা বিকেলটা দারুণ কেটে যাবে।
কীভাবে যাবেন: শাহবাগ কিংবা মৎস্য ভবন মোড়ে নেমে পায়ে হেঁটেই পার্কের যেকোনো গেট দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
৪. উত্তরার দিয়াবাড়ি: কাশবনের মায়া
খোলা আকাশ, লেকের ওপর বোট রাইডিং আর শরতের দিনে মাইলের পর মাইল কাশবনের সৌন্দর্য দেখতে চাইলে দিয়াবাড়ি একদম পারফেক্ট। ঢাকার ভেতরে থেকেও এখানে মিলবে গ্রামীণ এক আবহ।
কীভাবে যাবেন: সবচেয়ে সহজ উপায় হলো উত্তরা সেন্টার বা উত্তরা উত্তর স্টেশন পর্যন্ত মেট্রোরেলে চলে যাওয়া। সেখান থেকে ইজি বাইক বা রিকশায় দিয়াবাড়ি।
৫. জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা: বিকেলের আড্ডা
স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন আমাদের সংসদ ভবন। এর চারপাশের চন্দ্রিমা উদ্যান, ক্রিসেন্ট লেক আর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আড্ডা দেওয়ার জন্য প্রতিদিন বিকেলে হাজারো মানুষ ভিড় জমায়।
কীভাবে যাবেন: ফার্মগেট বা আড়ং মোড় থেকে হেঁটে কিংবা রিকশায় খুব সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়।
ছোট্ট একটি টিপস: ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে যাওয়ার আগে অবশ্যই তাদের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন এবং টিকিটের সময়সূচি জেনে নেবেন।
৬. জিন্দাবাজার কায়াকিং পয়েন্ট: জলজ অ্যাডভেঞ্চার
ঢাকার পূর্বাচলের কাছেই জিন্দাবাজার এলাকা। এখানকার মনোরম পরিবেশ আর শান্ত লেকে কায়াকিং করার অভিজ্ঞতা আপনার ডে-ট্রিপে একটু অ্যাডভেঞ্চারের ছোঁয়া এনে দেবে।
কীভাবে যাবেন: কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফিট রাস্তা দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজের দিকে যাওয়ার বিআরটিসি বাস বা লেগুনা পাওয়া যায়। সেখান থেকে জিন্দাবাজার।
৭. বোট ক্লাব ও বিরুলিয়া: পদ্ম আর গোলাপের গ্রাম
সাভারের বিরুলিয়া গ্রামটি এখন ‘গোলাপ গ্রাম’ নামে পরিচিত। মাইলের পর মাইল গোলাপের বাগান দেখতে দেখতে মন ভালো হতে বাধ্য। এর পাশেই সাদুল্লাপুর ও বোট ক্লাব এলাকাটি ঘুরে দেখার মতো।
কীভাবে যাবেন: মিরপুর বেড়িবাঁধ দিয়ে দিয়াবাড়ি ঘাট (সাভার) হয়ে ট্রলারে করে অথবা গাবতলী থেকে বাসে সাভার নেমে বিরুলিয়া যাওয়া যায়।
৮. হাতিরঝিল: রাতের আলোকসজ্জা
দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর হাতিরঝিলের রূপ পুরোপুরি বদলে যায়। লেকের ওপর ব্রিজের ল্যাম্পপোস্টের আলো আর ওয়াটার ট্যাক্সিতে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ ঢাকাবাসীর অন্যতম প্রিয় অভিজ্ঞতা।
কীভাবে যাবেন: কারওয়ান বাজার, মগবাজার, বাড্ডা বা রামপুরা—যেকোনো দিক দিয়েই হাতিরঝিলে প্রবেশ করা সম্ভব।
৯. বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন
মিরপুরের এই দুটি জায়গা পাশাপাশি অবস্থিত। বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিশাল বৃক্ষরাজি আর চিড়িয়াখানার বন্যপ্রাণী দেখার জন্য পুরো একটা দিন অনায়াসে কেটে যাবে পরিবার বা বন্ধুদের সাথে।
কীভাবে যাবেন: ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে মিরপুর-১ বা চিড়িয়াখামাগামী বাসে চড়ে সরাসরি এখানে নামা যায়।
১০. ধানমন্ডি লেক ও রবীন্দ্র সরোবর
সংস্কৃতিকর্মী আর তরুণদের আড্ডার চিরচেনা জায়গা রবীন্দ্র সরোবর। ধানমন্ডি লেকের পাড় ধরে হাঁটা, রিকশায় ঘুরে বেড়ানো আর লেকের ধারের টং দোকানের চা-স্ন্যাক্স আপনার ছুটির দিনটিকে দেবে এক ঘরোয়া আমেজ।
কীভাবে যাবেন: ধানমন্ডি ২৭, রাপা প্লাজা কিংবা সায়েন্স ল্যাব থেকে রিকশা নিয়ে সরাসরি লেক বা রবীন্দ্র সরোবরে চলে আসতে পারেন।
ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য একটু সময় বের করা জরুরি। আগামী ছুটির দিনেই পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন আপনার পছন্দের যেকোনো একটি গন্তব্যে। আপনার ডে-ট্রিপ হোক আনন্দময়।